গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়
প্রণিধি অধিশাখা
www.mof.gov.bd
জারির তারিখ:
০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ / ২২ মে ২০২৫ খ্রিঃ
স্মারক নম্বর:
০৭.০০.০০০০.১৭১.০৬.০২৫.১৭(অংশ-১)-৩১০
ঢাকা:
সরকার 'দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা, ২০২৫' অনুসারে সাময়িক শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি হার পুনঃনির্ধারণ করেছে। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতি এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলছে সংশ্লিষ্ট মহল।
নতুন মজুরি কাঠামো
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, নতুন মজুরি হার আগামী ১ জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে এবং এটি সকল সরকারি ও আধা-সরকারি খাতে দৈনিক ভিত্তিতে নিযুক্ত সাময়িক শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
শ্রমিকের ধরণ পূর্বের মজুরি (প্রতিদিন) নতুন মজুরি (প্রতিদিন)
এই হার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নীতিমালার পটভূমিঃ
২০২৫ সালে সরকার ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা’ প্রণয়ন করে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন প্রকল্প ও অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায্য মজুরি কাঠামো তৈরি করা। এর আওতায় নিয়োগ, কাজের সময়, মজুরি, সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই হার পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতেও নিয়মিত ভিত্তিতে মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে।
এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “প্রতিদিন নির্ভরশীল শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় লাখো সাময়িক শ্রমিক সরাসরি উপকৃত হবেন।”
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা যে ন্যায্য মজুরির দাবি করে আসছিলেন, এই সিদ্ধান্তে তা আংশিক পূরণ হলো।
তবে কিছু শ্রমিক সংগঠন দাবি করেছে, দ্রব্যমূল্যের বর্তমান হার অনুযায়ী এই মজুরি এখনও পরিপূর্ণ নয়। তারা এ হার আরও বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে পুনঃপর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি তাদের কাজের মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়াবে। পাশাপাশি অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি বক্তব্য
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন,
“সরকার সবসময় শ্রমিকবান্ধব। আমরা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এই নতুন মজুরি কাঠামো তাদের জীবনে স্বস্তি আনবে।”
তিনি আরও বলেন,
“শুধু মজুরি নয়, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ বিষয়েও আলাদা কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।”
শ্রমিকদের প্রতিক্রিয়া
ঢাকার একটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন,
“আগে দৈনিক ৪৫০ টাকা পেতাম। এখন ৫৫০ টাকা হলে কিছুটা হলেও বাজার সামলানো যাবে। তবে দ্রব্যমূল্য যেভাবে বাড়ছে, তাতে আরও কিছুটা বাড়লে ভালো হতো।”
শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সরকারকে ধন্যবাদ জানালেও দাবি করেছেন, এই মজুরি বৃদ্ধিও এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন,
“আমরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি, তবে আশা করি সরকার প্রতি বছর নিয়মিত মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করবে।”
বিশ্লেষকদের মতামত
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের মজুরি বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হবে এবং পেশাগত আগ্রহ ও উৎপাদনশীলতাও বাড়বে। তবে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে বাস্তব আয় কতটা বাড়বে তা নির্ভর করবে সামগ্রিক মূল্য নিয়ন্ত্রণের উপর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন,
“মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।”


0 Comments